Sunday, November 1, 2009

নিজের কথা-২

ঋত্বিকা স্কুল থেকে ফিরে সাধারণ একটি প্রশ্ন করেছে," মা, যশোয়ার দুইটা মাম্মি, ওর কোনো ড্যাডি নেই ক্যানো?'
আমি স্বভাব্বশতঃ এদিক ওদিক দেখি, তারপর বলি,'সবার যে একজন মাম্মি ও একজন ড্যাডি থাকবে সেরকম কোনো নিয়ম তো নেই; দুজন মাম্মি থাকতেই পারে। তাতে কি ওর কোনো অসুবিধে আছে বলেছে?'
মেয়ে বলে ,'না! he is just happy about it!"
আমি বলি,'ওর অসুবিধা না থাকলে তো ঠিকি আছে।'
আমার মেয়ে বলে,'হুম, বুঝেছি!"
জানি, ওকে এই বিষয়ে বুঝিয়ে বলার ভাষা ঠিক গুছিয়ে উঠতে আমিও পারিনি। পারিনি, কারণ এই বিষয়টি এখনও আমাদের কাছে স্পর্শকাতর একটি বিষয়। আর তাছাড়া ঋত তার জীবনের মাত্র তৃতীয় বছর পার করছে। এর বেশী কি কিছু আসলে বলা যায় ওকে! কিন্তু আমার মাঝে মাঝেই মনে হয়, যশ যে একটি ভিন্নরকম পরিবার থেকে এসেছে তা এইটুকু শিশু বুঝলো কেমন করে! ওর টিচারকে একদিন জিজ্ঞেস করলাম ব্যপারটি! লেসলী বলল,'ছেলেটি নিজেই এই গল্প করে ক্লাসে।' নিশ্চিন্ত হলাম যে কোনরকম অনভিপ্রেত আলোচনার মাধ্যমে এই কৌতূহল জাগেনি আমার কন্যার মাঝে। সমকামীতা নিয়ে আমি দেখেছি আমার পরিচিত প্রায় অনেকেরই মাঝে এলার্জি টাইপের রয়েছে। অন্য দুজন মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এই অবাঞ্ছিত আগ্রহ মাঝে মাঝে অবাক করে আমায়। ভাবছি এ নিয়ে পরে আবার লিখে রাখবো।

4 comments:

  1. মনি, সময় করে লিখো, জানতে চাই তোমার ভাবনাগুলো।

    ReplyDelete
  2. আমি নিজেকে কোনদিন খুব গুরুত্বপূর্ণ ভাবিনি, মনের ভুলেও না। কখনো কখনো মনে হয়েছিলো যে আমার প্রয়োজন রয়েছে, এইমাত্র।

    আমার প্রোফাইলে তোর এই লাইনদুটো ব্যবহার করলামরে।

    ReplyDelete
  3. খুব সোজা ভাবনা তানবীরা। একজন মানুষ কার সাথে বিছানা শেয়ার করবে,কার সাথে শরীর ভাগ করে নেবে, কার সাথে সন্তান উৎপাদন/পালন করবে সেটা তার খুবই ব্যক্তিগত বিষয়। এ নিয়ে কারো কিছু বলা মানে হলো অনধিকারচর্চা।

    ReplyDelete