আমার এক বন্ধু আছেন-মাঝে মাঝে সুখ-দুঃখের কথা বলি তার সাথে। তাকে কেন যেন আমার বর আবার দুই চক্ষে দেখতে পারে না। ফোন আসলেই সামনে গিয়ে দাঁড়াবে,'তোমার সাথে জরুরী কথা আছে...' অতএব ফোন রেখে দিতে হয়। আমি বলি,'এইগুলো কর কেন?' সে বলে,"' বুড়ার সাথে এত কিসের কথা?'আমি বলি,' তোমায় নিয়ে আর পারিনা!" কিন্তু মনে জেগে থাকে যে আমি চাইলেই কারো সাথে কথা বলতে আর পারি না, অন্য কারোর ইচ্ছা অনিচ্ছা নিয়ে আমাকে ভাবতে হয়...এটি যদি আজ থেকে ১০ বছর আগের ঘটনা হতো, আমি হয়ত খুশীই হতাম, এই ভেবে যে আমায় সে এতই ভালবাসে যে অন্য কারো সাথে কথা বললে তার ঈর্ষা হয়! কিন্তু আস্তে আস্তে যতই মানুষের সূক্ষ্ম অনুভূতির জগৎকে জানছি, মনে হচ্ছে যা দেখা যাচ্ছে তার বাইরেও কিছু রয়েছে। যা কিনা আমি জানি্না। ।আর এই না জানাটা ভালো।
আমার এই বিশেষ বন্ধুটির সাথে আমার কী এমন কথা হয়! বড়ই জটিল প্রশ্ন; ইনি রাশিফল এ বিশ্বাস করেন, আর আমার আর তাঁর রাশি একই, তাই এঁর ধারণা ইনি আমায় বুঝতে পারেন। আমি রাশিফলে বিশ্বাস করিনা, কিন্তু যাদবপুরে থাকার সময় এই বিষয় নিয়ে জ্বালিয়াতি করে প্রায় সব হষ্টেল্বাসিনীদের গোপন খবর জেনে গেছিলাম... কে কোথায় লাইন লাগাচ্ছে, কে কার বয়ফ্রেন্ড ভাগাবার তালে আছে, কে পরীক্ষা ফেল করার সমূহ সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি সব আমি জানতাম।রাশিফলের ওপর প্রচুর পড়াশুনা আমার তখন করা ছিল। কিন্তু, আমি যেমন আমার বন্ধুটিকে বলি যে, মানুষকে তার জন্ম তারিখ দিয়ে হয়ত কিছুটা পড়া যেতে পারে, কিন্তু বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে তার থেকে অনেক বেশী পড়া সম্ভব। একটা মানুষ কেমন করে হাঁটে, কেমন করে কোলের ওপর হাত দুটি রাখে, কীভাবে তাকায়, কীভাবে অধস্তনদের সাথে কথা বলে, কীভাবে হাসে...এসব দিয়ে তাকে অনেক বেশী পড়া যায়...। আমি তাকে মাঝে মাঝেই বলি যে, যে কাউকে আপনি পজিটিভ কথা দিয়ে শুরু করুণ, তারপ্পর সাধারণ গুনাবলী দিয়ে চালান, তারপর কিছুটা বলুন তাদের নেগেটিভ ব্যপারগুলো নিয়ে( যেগুলো আসলে তেমন সিরিয়াস কিছু না) দেখবেন সে ধরেই নেবে আপনি বিরাট গণক।
এছাড়া এই বন্ধুর সাথে আমার অন্য আরেকজন বিশেষ মানুষকে নিয়ে কথা হয়। তারঁ একমাত্র কন্যা, যে কিনা আমারই বয়সী। ভদ্রলোক বছরে একবারই দেশে যান, তখন মেয়ের সাথে দেখা হয়! উনি যে আমাকে মেয়ের মতন ভাবেন, বিষয় কিন্তু তা-ও না। আমাদের বন্ধুত্বে বয়স একটি অবহেলিত বিষয়...আর তা নিয়েই আমার বরের যত অস্বস্তি! আমাকে তার কন্যার স্থানে বসাতে পারলে ও বোধহয় খুব শান্তি পেত। কিন্তু এইসব আত্মীয় পাতানোতে আমার এলার্জি আছে। সম্পর্কের মধ্যে এসব না নিয়ে এলে কি সম্পর্ক সরল এবং স্বচ্ছ হতে পারে না? নিশ্চই পারে। কিন্তু আমাদের মাথায় আবর্জনার মত অদ্ভুত সব গাঞ্জা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে, কোনটা ডিসেন্ট কোনটা নয় এইসব। আমি বলি , আমার মন যাকে সুন্দর বলে আমি তাকেই সুন্দর বলে মানব, সবাই মিলে তাকে কদর্য বললে আমার কিছুই যায় আসে না। আর আমার মন যাকে মলিন বলবে, তোমরা হাজার তাকে সতেজ বল, আমি বলব না। আমার মন বা বিবেককে আমি সবথেকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মানি। কারণ মেনে কোনোদিন ঠকিনি!
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment