ভাবছি লিখে রাখি।কিছু কথা যা যখন তখন জ্বালাচ্ছে, লিখে রাখি। ঠিক যেমন বাবার কিনে দেয়া ডায়েরীতে লিখতাম- উঠানের আগাছা ফুলের কথা, পেয়ারা গাছে বসা দোয়েলের কথা, টিনের চালে শিশির পরার কথা-অংক পড়াতে আসা দুলাল স্যারের লুচ্চামীর কথা! সেরকম করে কিছু লিখি, জমানো নিরেট এবং সুখশ্রাব্য-অশ্রাব্য কথাগুলি... জীবন তো এই দুই বা ততোধিক অনুভূতির সমষ্টি। সব মিলিয়েই থাকা, না থাকা। একটা কথা বুঝে গেছি, কারো থাকা না থাকায় অন্য কারো কিছুই এসে যায় না। সুতারং নিজেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভাবার কোনো কারণ নাই।
আমি নিজেকে কোনদিন খুব গুরুত্বপূর্ণ ভাবিনি, মনের ভুলেও না। কখনো কখনো মনে হয়েছিলো যে আমার প্রয়োজন রয়েছে, এইমাত্র। যেমন যেদিন প্রথম রাজা আমাকে বলেছিল যে ওর জীবন আমার উপস্থিতি ছাড়া শূন্য, যেমন যেদিন ঋত্বিকার জন্ম হলো এবং ক্রমেই আমাকে কাছে না পেলে ওর অন্য কিছুতেই চলত না, আমার শরীর থেকে খাদ্য নিয়ে ও বেঁচে থাকল, বড় হল...আমাকে অনুকরণ করতে থাকলো আমাকেই অবাক করে দিয়ে..., ১৪ বছর পরে যেদিন আবার বাবার সাথে দেখা হলো, বাবা নিঃশব্দে কাঁদলো আমার গান শুনে, বাবা তখন খুবই অসুস্থ, আমিও কাঁদলাম, কাউকে না জানিয়ে। লোকের সামনে কান্নাকাটি করা আমি ভুলে গেছি। ভুলে গেছি মানে অনেক একা একা কাঁদতে হয়েছে একসময়। আমি ঠিক বলতে পারবনা সেই সময়টা অন্ধকারের না আলোর ছিল। আমি পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে একটা নীড় বিহীন পাখির মতন উড়ে বেড়াচ্ছিলাম। আমার বর ছিল, সে বর তখন বিদেশে, আমার বাবা-মা-বোনেরা ছিল, কিন্তু তাদের কাছে আমি তখন বাঞ্ছিত কেউ নই...।অথবা হয়তো তা নয় আমার বোঝার ভুল। হয়তবা তারাও আমাকে মনে করেছে, বিশেষ করে মা...১৪ বছর পরে মায়ের ভাঙাচোরা মুখ দেখে আমার মনে হয়েছে আমিই এর জন্যে দায়ী...আমার অত সুন্দর মাকে দেখে মনে হয়েছিল ভাঙা মন্দিরের পুরানো কনো অযত্নে ফেলে রাখা দেবী।মা কাঁদেনি, শুধু বলেছিলো বাবার কাছে গিয়ে বসে থাকতে, তখন মনে হয়েছিল আমার প্রয়োজন রয়েছে কারো কারো কাছে অথবা প্রয়োজন রয়েছে আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষদের কাছে।সে কি কম কিছু?
হা তবে কেন আজকাল ভিন্ন মনে হয়? এই প্রশ্নের জবাব পেলে আবার লিখে রাখব।
Sunday, October 11, 2009
পরিব্রাজক
তোমার হাত ছুঁয়ে এলো মেঘ
পর্বতমালার আদিম বৃক্ষ উল্লাসে
বর্ষা দিয়ে গেল এক নদী
আমি কি তখন কেঁপেছিলাম জ্বরে-উথাল পাথাল
প্রার্থনার বেলপাতায়?
চতুর দূরত্বে চোখের আড়ালে
জমা করেছি অযাচিত মেঠো ধূলাপথ
দূরের কাশবনে তাকাতে তাই গোপনীয় ভীতিবোধ
আমি কি পারি খুলে দিতে
জন্মের থেকে জমা করা মহেঞ্জোদারো-
আকৃষ্ট কবি কি মহৎ পরিব্রাজক?আমি
কি পারি প্লাবনের পরে
আবার ফেরাতে শষ্যদানা, ভরা-নদী নুয়ে যাওয়া
সবুজ ঘাসের চারা।।!
আবার কাঁপন কি জমে জমানো আদিম জ্বরে
গাছের ছালের মতন খসে যেতে পারি
পুরোনো সভ্যতার মতন খুলে দিতে পারি
ঘষামাজা নতুন কাঠের দ্বার-
বলি হওয়া যেতে পারে খোদাই শিল্পীর নমিত
হাতুরি বাটলে
আবার ভাসব বলে, আবার উড়ব বলে
ভেতরে রেখতে পারি নীড় আর চড়;
ভেতরে রাখতে পারি লোকালয়নাশা প্রবল পলির ঢেউ!
Subscribe to:
Comments (Atom)